আতঙ্কিত হবেন না, করোনার মতো হামও কন্ট্রোলে আনা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয়

জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, করোনাভাইরাসের মতো হামও কন্ট্রোলে আনা হবে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার সকাল ৯টা থেকে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে। বেশি সংক্রমিত ১৮টি জেলার ৩০ উপজেলায় এই কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আরও জেলায় দেওয়া হবে। ৬ থেকে ৫৯ মাসের শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যারা এর আগে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা নিয়েছেন, তারাও এই বিশেষ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। একাধিকবার এই টিকা নিলেও শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি নেই।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। করোনার মতো হামও আমাদের ডাক্তাররা কন্ট্রোল করতে সম্ভব হবে।

এ সময় হামের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি যেসব শিশু অসুস্থ তাদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

হাম রোগ আসলে কী, কেন হয়?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম প্রকৃপক্ষে একটি মারাত্মক ভাইরাল ডিজিজ। মায়াসলেস নামের একটি ভাইরাস দ্বারা এটি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি বহু বছর ধরে আমরা প্রতিরোধ করে আসছি। এবার একটু ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেল। যেখানে আগে হাম হতোই না, সেখানে এবার মহামারি আকারে দেখা গেল।q

তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন শিশু আক্রান্ত হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। হামে যদিও সরাসরি মৃত্যু ঘটে না। কিন্তু হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, এর ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তার মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন এ কমিয়ে দেয়।

যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত এবং এর চিকিৎসা কী?

ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে, শরীরের র‌্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।

তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে—তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *