ঠাঁই নেই শামসুদ্দিন হাসপাতালে, এক বেডে একাধিক রোগী

সিলেট

হামের উপসর্গ থাকা নিজের ৬ মাস বয়সী ছেলেকে ভর্তি করাতে সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন কোম্পানীগঞ্জের আশিকুর রহমান। কিন্তু হাসপাতালে কোন সিট খালি নেই। বেসরকারি হাসপাতালগুলোও হাম উপসর্গ থাকা রোগীদের ভর্তি নিচ্ছে না।

আশিকুর রহমান বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। অথচ হাসপাতালে মাত্র ১০০ শয্যা আছে। একটা সিটও খালি নেই। এই অবস্থায় আমি ছেলেকে নিয়ে কোথায় যাবো?

হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পর সিলেটের এই চিকিৎসা কেন্দ্রটিকে হাম ডেডিকেডেট হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ শিশুদের এই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে। শামসুদ্দিন হাসপাতালে শয্যা আছে ১০০ টি। অথচ রোববার দুপুর পর্যন্ত ভর্তি রয়েছে ১২০ শিশু। ফলে একটি শয্যায় একাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। আর প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জায়গা হচ্ছে মেঝেতে। এতে করে একজনের সংম্পর্শে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অন্যজন।

সুয়েবুর রহমানও ছেলেও হামের উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি। তার ছেলের জন্য যে বেড দেওয়া হয়েছে সেই বেডে ভর্তি আছে আরেক শিশু। ফলে দুই শিশুকেই একই বিছানায় থাকতে হচ্ছে।

সুয়েবুর রহমান বলেন, আমার ছেলের হাম শনাক্ত হয়নি। উপসর্গ আছে। এখন পরীক্ষায় যদি দেখা যায় আমার ছেলের হাম নেই কিন্তু তার সাথে একই বিছনায় থাকা শিশুটির হাম রয়েছে, তাহলে একই বিছানায় থাকার ফলে তো আমার ছেলেও আক্রান্ত হয়ে পড়বে। এখানে এসে সুস্থ হওয়ার বদলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পুরো হাসপাতালে কোন শয্যা খালি নেই। অনেকগুলো বেডে দুজন করে শিশু শুয়ে আছে। সাথে আছেন তাদের অভিবাবকরা। ফলে হাসপাতালটিতে একেবারে গাদাগাদি করা ভীড়।

হাসপাতালে কোন বেড খালি নেই জানিয়ে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, রোগীর চাপ দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেক বেডে দুজন বা তারও বেশি রোগী ভর্তি আছে। একারণে চিকিৎসক এবং নার্সরাও হিমশিম খাচ্ছেন। তবু আমরা সবাইকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এদিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডকে হামের রোগীদের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো চালু হয়নি। ফলে আপাততহিাম রোগীদের চাপ সামলাতে হচ্ছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকেই।

সিলেটে ল্যাব টেস্টের সুযোগ না থাকায় উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষা করে রিপোর্ট আনা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *