
আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে ভোটের মাঠে তৎপর হয়ে উঠেছেন হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট ও মাধবপুর) আসনের প্রার্থীরা। ভোট নিজেদের অনুকূলে নিতে জোর প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন ওরফে মাওলানা তাহেরী।
এর আগে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সৈয়দ সায়েদুল হক, যিনি ব্যারিস্টার সুমন নামে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় তাঁর ভোটব্যাংক কার দিকে যাবে—তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে চলছে আলোচনা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুনারুঘাট ও মাধবপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঠে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির এস এম ফয়সল ও ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা তাহেরী। স্থানীয়দের মতে, এই দুই প্রার্থীই প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য ছিলেন। বয়স আশির কাছাকাছি হলেও তিনি নিয়মিত ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে প্রচারণায় রয়েছেন ভাই ও মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহান।
অন্যদিকে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা তাহেরী নিজেকে সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের ‘বন্ধু’ দাবি করে তাঁর সমর্থকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তিনি নির্বাচিত হলে সুমনের মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি চুনারুঘাট ও মাধবপুর এলাকায় কোনো ওয়াজ মাহফিলে সম্মানী নেবেন না বলে জানিয়েছেন। চা-শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তিনি।
চুনারুঘাট ও মাধবপুরে মোট ২১টি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগানের চা-শ্রমিকেরা এ আসনের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রার্থীরা তাঁদের সমর্থন পাওয়ার জন্য আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন। চা-শ্রমিকদের ভাষ্য, যিনি তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করবেন, তাঁকেই ভোট দেবেন।
এ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, বাসদের মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের রাশেদুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রেজাউল মোস্তা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহ আল আমিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট এবং চা-শ্রমিকদের ভোট যেদিকে বেশি যাবে, সেই প্রার্থীই এগিয়ে থাকবেন।
বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল বলেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি সবসময় মানুষের পাশে ছিলেন। অন্যদিকে মাওলানা তাহেরী বলেন, অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন ও চা-শ্রমিকদের বৈষম্য দূর করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
শেয়ার করুন
