
২৬ জানুয়ারী আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেট কর্তৃক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকালে উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, এয়ারপোর্ট রোড, বড়শালা, সিলেটে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের কমিশনার জনাব খন্দকার নাজমুল হক মহোদয়ের সভাপতিত্বে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব সৈয়দ মুসফিকুর রহমান, সদস্য (মূসক নিরীক্ষা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কাস্টমস এখন রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি, যাত্রীসেবা, চোরাচালান প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাণিজ্য সহজীকরণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি উন্নয়ন ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন সর্বোপরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশীয় অবস্থান সুসংহতকরণ ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পুলিশ কমিশনার, সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশ; জনাব মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), সিলেট এবং জনাব ভূবন মোহন ত্রিপুরা, কর কমিশনার, কর অঞ্চল, সিলেট। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের উপ-কমিশনার জনাব সম্প্রীতি প্রামানিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের অতিরিক্ত কমিশনার জনাব মীর আবু আবদুল্লাহ আল-সাদাত উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে Customs Protecting society through vigilance and commitment অর্থাৎ অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস।”। বাংলাদেশ কাস্টমস বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস, ২০২৬ উদযাপন করছে। বিশ্ব বাণিজ্যের উন্নয়ন সহজীকরণ, সরলীকরণ, উদারীকরণ এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই দিবস পালন করা হয়। Customs Co-operation Council এর প্রথম সভার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার অভিপ্রায়ে ২০০৯ সাল হতে প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপিত হচ্ছে। উল্লেখ্য ১৯৯৪ সাল হতে বাংলাদেশ WCO এর সক্রিয় সদস্য। ভেজাল, নকল, নিম্নমানের পণ্য সহ মাদক দ্রব্য প্রতিরোধের মাধ্যমে কাস্টমস যেভাবে মানুষ ও সমাজের সুরক্ষা প্রদান করছে তা তুলে ধরেন এবং রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক জীবনমান উন্নয়নে কাস্টমসের উল্লেখযোগ্য অবদানের কথা সেমিনারে তুলে ধরেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি পুলিশ কমিশনার জনাব আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী উল্লেখ করেন মাদক দ্রব্য ও চোরাচালান রোধে কাস্টমস এর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এ ব্যাপারে পুলিশ ও অন্যান্য এজেন্সী একসাথে কাজ করবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জনাব মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন উল্লেখ করেন বাংলাদেশের মোট রাজস্বের 27-28% কাস্টমস থেকে সংগৃহীত হয় উল্লেখ করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাস্টমস এর ক্রমাগত ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি দ্রুততার সাথে পণ্য খালাসের উপর জোর তাগিদ দেন। বিশেষ অতিথি কর কমিশনার জনাব ভূবন মোহন ত্রিপুরা উল্লেখ করেন আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস থেকে ক্রমাগত ভাবে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেট এর কমিশনার জনাব খন্দকার নাজমুল হক উল্লেখ করেন এ দপ্তরের আওতাধীন শুল্ক স্টেশনসমূহ থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে আইন-বিধি বিধান পরিপালন করে যথাযথভাবে পণ্যের ঘোষণা প্রদান করেন সে ব্যাপারে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করেন। পরিশেষে সভার সভাপতি সেমিনারে উপস্থিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দসহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
শেয়ার করুন
