ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল ৪ বাংলাদেশি

বাংলাদেশ

ওমানের রাজধানী মাস্কাটে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে ঘোবরা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই জনের বাড়ি কুমিল্লা, বাকিরা কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা। এরই মধ্যে দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তারা হলেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার প্রদীপ কুমার এবং রামু উপজেলার লোকমান হাকিম।

প্রতিবেশীদের বরাতে জানা যায়, কাজ শেষ করে চারজন এক গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। এই সময় অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কুলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। স্থানীয় আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।

বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সমিতিগুলো নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের প্রিয়জনরা দেশে ফিরলে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনা হবে। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের দাবি করেছেন।

ওমানে বাংলাদেশি কর্মী ও অভিবাসীদের জন্য দূতাবাসের সতর্কতামূলক বার্তা জারি করা হয়েছে। তারা বলেছেন, সড়কে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যানবাহন চালানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দূতাবাস ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির চালক এবং অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্ঘটনার মূল কারণ অতিরিক্ত গতি এবং সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানো।

ওমানে বাংলাদেশি প্রবাসীরা নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে মাস্কাট ও অন্যান্য নগর এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা এবং আইন শৃঙ্খলা কঠোরভাবে পালন করার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে মানসিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় দূতাবাস নিয়মিত সচেতনতা প্রচার চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার ঘটনার পরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর জন্য সকল আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *