কেরাণীগঞ্জে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে ৩ শতাধিক কর্মীর জামায়াতে যোগদান

বাংলাদেশ

কেরাণীগঞ্জে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল তিনটায় ঢাকা-২ আসনের অন্তর্গত তারানগর ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ দলবদল করেন তারা।

সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন এবং ঢাকা-২ আসনে ১১ দল সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কর্ণেল (অব.) মো. আব্দুল হক নবাগত নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

দলবদলের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা মিরাজুল আলম মাশহুর। তাঁর সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের তিন শতাধিক নেতাকর্মী একযোগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিরাজুল আলম মাশহুর বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের যে আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেই আদর্শ থেকে বিএনপি আজ বিচ্যুত হয়েছে। তাঁর দাবি, সারাদেশের মতো কেরাণীগঞ্জেও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখল ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সংগঠনটি বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের দায় থেকে মুক্তি পেতেই তারা দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আদর্শ ছাড়া মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা সম্ভব নয়এ উপলব্ধি থেকেই নানা বাধা ও হুমকির মুখেও তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন এবং দ্বীন কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, অন্য দল থেকে তিন শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ এখন জামায়াতের ওপর আস্থা রাখছে। তাঁর ভাষায়, আগামী নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামী আদর্শভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ ও আধিপত্যবাদবিরোধী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই জামায়াতের লক্ষ্য।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কর্ণেল (অব.) মো. আব্দুল হক বলেন, কেরাণীগঞ্জ ও সাভারের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে নবাগতদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তিনি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আব্দুর রহিম মজুমদার। সঞ্চালনায় ছিলেন সাভার থানা আমীর আব্দুল কাদের। সভায় জামায়াত, ছাত্রশিবির ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *