
গণ-অভ্যুত্থানে সময় হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানায় আগুন দেওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টায় শুনানি শেষে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট-৩ আবদুল মান্নানের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে সাড়ে ১০টার দিকে আদালত থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বের হন তিনি। আদালত থেকে বের হয়ে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন তিনি
জামিন পেলেন বৈষম্যবিরোধী সেই নেতা
এ সময় মাহদী বলেন, সারাদেশের সহযোদ্ধাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পুরো বাংলাদেশের আমার বিপ্লবি ভাইয়েরা যে সকল জুলাই যোদ্ধা দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষ যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি এ ঋণ কখনও শোধ করতে পারবো না। আপনাদের এ দায়বদ্ধতা সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাশা পূরণ করবো ইনশাআল্লাহ।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের মাধ্যমে আমরা মাহাদীকে মুক্ত করে নিয়ে আসছি। সাংবাদিকসহ সবাই রাতভর কষ্ট করায় আমরা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এর আগে, সকাল ৮টায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মাহদীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তার মুক্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে সকাল থেকে বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, এনামুল নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এনামুল হাসানকে আটকের পর তার মুক্তির দাবিতে গত শুক্রবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। এ সময় মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে অবস্থান নেন।
এ সময় ওসির সঙ্গে মাহদী হাসানের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের উদ্দেশে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, ‘আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?’ একপর্যায়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?’
শেয়ার করুন


