সিলেট বিভাগে বিএনপির ডামি প্রার্থীদের মধ্যে হাসছেন কেবল কামরুল। অপর তিন প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা এখন হতাশার আগুনে পুড়ছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি সিলেট বিভাগের অন্তত ৩টি আসনে দু’জন করে প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিলের অনুমতি দিয়েছিল। শুরুর দিকে যাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল তাদেরকেই মূল প্রার্থী হিসাবে ধরে গণমাধ্যম থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের সবাই অন্যদের ডামি প্রার্থী হিসাবেই গণ্য করছিলেন। যদিও এই ডামিদের কেউ কেউ নিজেদেরই মূল প্রার্থী বলেও প্রচারণা চালিয়েছিলেন
সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট এবং সুনামগঞ্জে বিএনপি ডামি প্রার্থী রেখেছিল। আসনগুলো হচ্ছে সিলেট-৬, সুনামগঞ্জ-১ ও সুনামগঞ্জ-২ আসন।
সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ২০১৮ সালের দলীয় প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয় সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীকে। প্রার্থী ঘোষণার প্রথম দিনেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসনে এমরান চৌধুরীকে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেন। এতে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনগুলোতে থাকা ফয়সল চৌধুরীর কর্মী সমর্থক ও অনুরাগীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান। তারা এই সিদ্ধান্ত রিভিউর জন্য জোরালো দাবি তোলেন।
বার বার এমন দাবি উঠলেও কেন্দ্রীয় বিএনপি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে ডিসেম্বরের শেষের দিকে এসে দলটি ফয়সল আহমদ চৌধুরীকেও মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। নড়েচড়ে বসেন ফয়সল চৌধুরী ও তার কর্মী সমর্থকরা। অনেক নেতাকর্মীই প্রচারণা শুরু করেন, তিনিই মূল প্রার্থী, ডামি নয়। তবে গত শনিবার রাত থেকেই বিষয়টি অনেকের কাছেই পরিস্কার হয়ে উঠতে শুরু করে। রবিবার রাতেই জানা যায়, ফয়সল চৌধুরী আউট। ধানের শীষের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীই।
২০১৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ঘন্টাখানেকের নিরপেক্ষ ভোটে লক্ষাধিক ভোট পাওয়া ফয়সল চৌধুরী ও তার কর্মী-সমর্থকরা যে এখন হতাশার আগুনে পুড়তে শুরু করেছেন, সেটা বলাই-বাহুল্য।
এদিকে সুনামগঞ্জ- ২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে শুরুর দিকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল সাবেক সাংসদ ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে। তবে পরবর্তীতে তার সঙ্গে ডামি প্রার্থী ঘোষণা করা হয় প্রবাসী বিএনপি নেতা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে। তবে শেষ পর্যন্ত পাভেলও টিকতে পারেন নি মনোনয়নের দৌড়ে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির আস্থার প্রতিক হয়ে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে লড়ছেন নাছির চৌধুরীই।
সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-মধ্যনগর-তাহিরপুর-জামালগঞ্জ) আসনেও বিএনপি দু’জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে এ আসনে প্রধান প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হককে। তবে শেষ পর্যন্ত আউট হতে হয়েছে তাকে। মানে এ আসনে ডামি প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলই বাজিমাৎ করে ফেলেছেন। ভোটের দৌড়ে যাই হোক, মনোনয়ন দৌড়ে শেষ হাসিটা হাসলেন তিনিই। মানে ধানের শীষের প্রার্থী এ আসনে কামরুজ্জামান কামরুলই।
প্রধান সম্পাদকঃ সারওয়ার খান
সম্পাদকঃ জাকের খান (রুবেল)
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫