
সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ ছিল, তা এখনো বহাল তবিয়তে চলছে। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ক্ষমতাসীনদের ছায়ায় থাকা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এখনও পর্দার আড়াল থেকে সংস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন।
তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জয়দিপ দাস সুজক এখনো স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, নবনির্বাচিত কমিটিও গঠিত হয়েছে নাদেলের ইচ্ছা ও পরামর্শে। স্বচ্ছ নির্বাচন কিংবা পরিবর্তনের কোনো ছাপ সেখানে নেই। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা প্রভাব-প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে নাদেল ও তার ঘনিষ্ঠ মহল এখনো সংস্থাটির নানা কার্যক্রমে কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে।
বিশেষ করে মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশন ইস্যুতে প্রতিবছরের মতো এবারও সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পেশাদার সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে, ভুঁইফোঁড় অনলাইন পোর্টাল এবং ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজ চালানো অনেককে মিডিয়া পাস প্রদান করা হয়েছে। এদিকে প্রকৃত সাংবাদিকরা মিডিয়া পাস না পেয়ে মাঠে কাজ করতে পারছেন না।
মিডিয়া কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা তায়েফ এবং তার পেছনে থাকা নেতৃত্বশক্তি—বিশেষত নাদেল—প্রতিবারই যেন এক ধরণের “চোর-পুলিশ” খেলা চালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, স্বজনপ্রীতি করে পাস কার্ড বরাদ্দ দেওয়া ছাড়াও ভলান্টিয়ার এবং টিকিট কালোবাজারির সঙ্গেও তারা জড়িত।
এদিকে, ফরহাদ কোরেশির নেতৃত্বে আগে যারা মিডিয়ার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের মধ্যে একজন বাদে সবাই আছেন আগের জায়গায়। তাদের ভূমিকা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, তারা মূলধারার সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করে যাচ্ছেন। আর এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে নামসর্বস্ব গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা মিডিয়া সুবিধা ভোগ করে চলেছেন।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এখনো ‘ফ্যাসিস্ট’ ধাঁচের দখলদারিত্ব চলছে। সরকার পরিবর্তনের পরও ক্রীড়া সংস্থায় যে সংস্কারের আশা ছিল—তা কার্যত ধোঁয়া হয়ে গেছে। পরিবর্তনের কোনো ছোঁয়া সেখানে লাগেনি। বরং পুরনো রীতিতে ‘লুটপাট’ ও ‘পুকুর চুরি’ অব্যাহত রেখেছে ক্ষমতার আড়ালে থাকা চক্রটি।
শেয়ার করুন