
পাবনার চাটমোহরে ডিভোর্স দেয়ায় ক্ষোভে হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় সুলতানা জাহান ডলি (৪৬) নামের এক নার্সকে কুপিয়ে জখম করেছে সাবেক স্বামী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল পৌন ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত সাবেক স্বামী আমিরুল ইসলাম।
এদিকে, গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধর করে ডলিকে চিকিৎসা দিয়ে চাটমোহর হাসপাতালেই ভর্তি রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন। অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম উপজেলা পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মল্লিকবাইন গ্রামের নূর মোহাম্মদের পালিত ছেলে।
সুলতানা জাহান ডলি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে আমিরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় সুলতানা জাহান ডলির। আমিরুল এবং ডলি খাতুনের প্রত্যেকেরই এটি দ্বিতীয় সংসার। বিয়ের পর থেকে দুজনের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে পর পর দুই বার তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আবারও সংসার শুরু করেন।
প্রায় দুই মাস আগে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন সুলতানা জাহান ডলি। এরপর আবারও তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে চলতি মাসের (৩ জানুয়ারি) তারিখে সুলতানা জাহান ডলি আমিরুল ইসলামকে ডিভোর্স দেন। এর জেরে সুলতানা জাহান ডলিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন আমিরুল ইসলাম-এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত আমিরুল সাবেক স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি হাসপাতালে বিভিন্ন নার্সের মেসেঞ্জারে এবং হোয়াটসঅ্যাপে দিয়ে চরিত্র হননের চেষ্টা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন ডলির। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধরণ ডায়েরি করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত।
আরও পড়ুন : বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা: মূল আসামি শুটার মিশু গ্রেপ্তার
এরপর শুক্রবার সকালে নাইট ডিউটি শেষে বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুলতানা জাহান ডলি। এ সময় আচমকা জরুরি বিভাগে ঢুকে হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডলির গলা, পেট, দুই হাতসহসহ শরীরের অসংখ্য জায়গায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হুমায়ুন কবির জানান, আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। তবে বিষয়টি শুনেছি। ওই নার্সের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরওয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শেয়ার করুন


