স্ত্রী-সন্তান হারানো সেই সাদ্দামকে জামিন দিলেন হাইকোর্ট

বাংলাদেশ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সাদ্দামের করা জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন।

একইসঙ্গে হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, কেন এই মামলায় তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না।

সাদ্দামের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সম্প্রতি তার মক্কেলের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন।

তবে যশোর কারাগারে থাকা সাদ্দাম বাস্তবে মুক্তি পাবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি। এর আগে একাধিক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও একটির পর একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আইনজীবী জানান, যে মামলায় সর্বশেষ জামিন দেওয়া হয়েছে, সেই মামলার এফআইআরে সাদ্দামের নাম ছিল না। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে সাদ্দামকে তার মৃত স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মরদেহ মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য দেখতে দেওয়া হয়। প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ দুটি কারাগারের সামনে আনা হয়।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে পুলিশ বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর (২২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় তাদের নয় মাসের ছেলে নাজিমের মরদেহও। শিশুটি ছিল দম্পতির একমাত্র সন্তান। স্বর্ণালী ছিলেন স্থানীয় জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের মেয়ে।

স্বর্ণালীর ভাই শুভ সাংবাদিকদের বলেন, একাধিক মামলায় সাদ্দাম কারাগারে থাকায় তার বোন দীর্ঘদিন মানসিক চাপে ছিলেন।

তার দাবি, হতাশা থেকেই তিনি প্রথমে সন্তানকে হত্যা করেন এবং পরে নিজে আত্মহত্যা করেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *