দাঁড়িপাল্লা জিতলে প্রধানমন্ত্রী হবেন ডা. শফিক : ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী

মৌলভীবাজার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বইছে নতুন রাজনৈতিক হাওয়া। এই আসনের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী, ১০ দলীয় জোটের মনোনীত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমানের জন্মমাটির প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী দাবি করেছেন—আগামী নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ বিজয়ী হলে কুলাউড়ার কৃতী সন্তান ডা. শফিকুর রহমান হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

রোববার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী বলেন, কুলাউড়াবাসী এবার পরিবর্তন চায়। অতীতে বিভিন্ন দলকে ভোট দিয়ে এখানকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পায়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণা জন্মেছে যে, এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় জামায়াতে ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এ মাটির সন্তান ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের হাল ধরবেন।

নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার পর গুঞ্জন ছিল ডা. শফিকুর রহমান নিজেই এই আসনে লড়বেন। তবে শেষ পর্যন্ত জোটের পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর পর এই আসনে দলীয় প্রার্থী পেয়ে উজ্জীবিত জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীরা। তাদের মূল লক্ষ্য—বিজয় নিশ্চিত করে আমীরে জামায়াতকে এই আসনটি উপহার দেওয়া এবং ২০০১ সালের পরাজয়ের ক্ষত মুছে ফেলা।

নির্বাচিত হলে কুলাউড়ার চা-শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান সায়েদ আলী। এছাড়াও তিনি হাকালুকি হাওরের উন্নয়ন, কুলাউড়া পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, উত্তর কুলাউড়ার ময়লার ভাগাড় স্থানান্তর, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং যানজট নিরসনে প্রধান সড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হিন্দু সম্প্রদায় ও চা-বাগানবাসী এবার দলমত নির্বিশেষে তার পক্ষে রায় দেবেন।

উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল মুনতাজিম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জানান, গত ৫৪ বছরে কুলাউড়ার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তারা পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের দাবি, ডা. শফিকুর রহমানের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এবার কুলাউড়ায় দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করা হবে।

ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী ১৯৯০ সালে ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্রশিবিরের সিলেট মহানগর ও মৌলভীবাজার জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এবং গত ৩ বছর ধরে জেলা আমীরের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সাথে সম্পৃক্ততা নির্বাচনী মাঠে তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *