পানি না পেয়ে ফেটে যাচ্ছে জমি, বোরো নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

সুনামগঞ্জ

দোয়ারাবাজার উপজেলার মহব্বতপুর–গোজাউড়া হাওরের একাংশে বোরো ধান আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিএডিসি’র লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতায় সময়মতো পানি না পাওয়ায় জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে বীজতলা। এতে শতাধিক কৃষক পরিবার পড়েছে গভীর দুশ্চিন্তায়।

সরেজমিনে গোজাউড়া হাওরের মহব্বতপুর অংশে গিয়ে দেখা যায়, পানির অভাবে অনেক জমিতে এখনো চারা রোপণ করা সম্ভব হয়নি। কোথাও কোথাও জমিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, আবার বীজতলায় পানি না থাকায় চারা হলদে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। খাসিয়ামারা–মরানদী এলাকা থেকে সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহের কথা থাকলেও চারটি পাম্পের অনুমোদন ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিলম্বিত হওয়ায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পানি না পাওয়ায় পুরো আবাদ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সেচ কার্যক্রম শুরু না হলে চলতি মৌসুমে ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে তারা মনে করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামুনপুর ও মহব্বতপুর গ্রামের সেচ পাম্প নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষ—হানিফ আলী ও আমীর আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছে। হানিফ আলীর সেচ পাম্পের অনুমোদন থাকলেও ওই লাইনের পানি নিতে আমীর আলীর পক্ষের কৃষকরা রাজি নন।

অপরদিকে, আমীর আলীর সেচ পাম্পে বিএডিসি’র লাইসেন্স থাকলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় পাম্প চালু করা যাচ্ছে না। ফলে এই রেষারেষি ও কারিগরি জটিলতার সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমীর আলী বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই আবেদন করেছি, লাইসেন্সও পেয়েছি। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় পাম্প চালাতে পারছি না। এখন যদি দ্রুত পানি না পাই, তাহলে সব পরিশ্রম বিফলে যাবে।

একই গ্রামের কৃষক জামাল মিয়া, আশুক মিয়া ও আব্দুস শহীদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মৌসুমের এই সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন পানি না পেলে চারা রোপণের উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। এতে পুরো বছরের খোরাক নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

এ বিষয়ে হানিফ আলী বলেন, আমার লাইসেন্স আছে এবং আমি পানি দিতে আগ্রহী। কিন্তু ওই অংশের কৃষকরা এখনো আমার পাম্প থেকে পানি নিতে আসেনি।

এদিকে সংকট নিরসনের দাবিতে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *