
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ভোটগ্রহণের আগেই চরম অনিয়ম, সহিংসতা ও নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন সময়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)–সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রচারণা সময়ে বিরোধী প্রার্থীদের সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, হুমকি প্রদান এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। একাধিক স্থানে বিরোধী দলের কর্মীদের মারধর করা হয়। বিশেষ করে এলডিপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। হামলার ঘটনায় আশিক, কাহির এবং সায়ীদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তারা হামলার শিকার হন এবং আহত হন।
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকেরা নির্বাচনী আচরণবিধি প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করে সিলেট নগরীতে একচ্ছত্র প্রভাব ও ভীতি সৃষ্টি করে নির্বাচনী মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকার সুযোগ নিয়ে বিরোধী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন আরও বাড়ানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় এলডিপি কর্মী আশিককে একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময়ে আরও অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় বলে জানা যায়। এতে বিরোধী দলের অনেক কর্মী আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী সহিংসতার কারণে নির্বাচনের পরিবেশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংস পরিস্থিতির প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী, বিএনপি প্রার্থীসহ একাধিক বিরোধী প্রার্থী ও দল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি, সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের কারণে নির্বাচন আর সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থায় নেই।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, ভোটের আগেই বিরোধী প্রার্থীদের ওপর হামলা, ভীতি সৃষ্টি ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
শেয়ার করুন