স্বপ্নের ফাইনালের খোঁজে ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা কার আছে ফাইনালে ওঠার সামর্থ্য

খেলাধুলা

বিশ্বকাপ এখন তার অন্তিমলগ্নে। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্বে এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব ফুটবলের চার পরাশক্তি—ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আগামীকাল বুধবার আটলান্টায় ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মনে এখন বড় প্রশ্ন—এই দুদলের মধ্যে যে দলই ফাইনালে উঠুক না কেন, তারা কি অপর সেমিফাইনালে আজ রাতে মুখোমুখি হতে যাওয়া দুই দানব ফ্রান্স বা স্পেনকে রুখে দেওয়ার মতো ক্ষমতা রাখে?
চলতি পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে সেমিফাইনালিস্ট চার দলের শক্তি ও শক্তির পুনর্বিন্যাস নিচে আলোচনা করা হলো-
ইংল্যান্ড

মূল শক্তি- জুড বেলিংহামের একক নৈপুণ্য এবং যেকোনো উপায়ে জয় ছিনিয়ে আনার মানসিকতা।

টমাস টুখেলের শিষ্যরা এবার মাঠে খুব একটা চোখধাঁধানো ফুটবল উপহার দিতে না পারলেও, ম্যাচ জেতার ক্ষেত্রে তারা কোনো ভুল করছে না। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিতে যখনই দল বিপদে পড়েছে, তখনই ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জুড বেলিংহাম। তার জোড়া গোলেই সেমিফাইনালে পা রাখে থ্রি-লায়ন্সরা। বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের চমৎকার ফর্ম দলটিকে ফাইনালে তোলার প্রধান অস্ত্র। তবে মাঠের খেলায় ধারাবাহিকতার অভাব এবং একক পারফরম্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ফাইনালের মঞ্চে ফ্রান্স বা স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

আর্জেন্টিনা

মূল শক্তি- নকআউটের চরম চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা এবং লড়াকু মানসিকতা।

১৯৬২ সালের পর কোনো দলের পক্ষে বিশ্বকাপ ধরে রাখা কেন এত কঠিন, তা এবার হাড়েমাজ্জায় টের পাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই তাদের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়, মিসরের বিপক্ষে শেষ ১১ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, আর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ জনের দলের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয়—আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালের পথটি ছিল কাঁটাঝোপে ভরা। তবে ইতিবাচক দিক হলো, দলকে জেতাতে এখন আর শুধু লিওনেল মেসির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। দুটি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে খেলার ক্লান্তি থাকলেও, নকআউট ম্যাচ জেতার অবিশ্বাস্য মনস্তাত্ত্বিক ক্ষমতা আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।

স্পেন

মূল শক্তি- দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের ধৈর্য।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে আরো একবার স্পেনের ত্রাতা হিসেবে হাজির হলেন মিকেল মেরিনো। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত স্পেন মাত্র ১টি গোল হজম করেছে, যা তাদের রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার প্রমাণ দেয়। লামিনে ইয়ামাল তার সেরা ফর্মের ঝলক দেখালেও টুর্নামেন্টে এখনো বড় কোনো অবদান (গোল বা অ্যাসিস্ট) রাখতে পারেননি। তবে ব্যক্তিগত উজ্জ্বলতার চেয়ে দলীয় সংহতি ও কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বই স্পেনকে এই আসরের অন্যতম অপ্রতিরোধ্য দল হিসেবে গড়ে তুলেছে।

ফ্রান্স

মূল শক্তি- কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলের বিধ্বংসী আক্রমণভাগ এবং টুর্নামেন্টের সেরা ব্যালেন্সড দল।

ছয় ম্যাচে ছয় জয়, ১৬ গোল স্কোর এবং মাত্র ২টি গোল হজম—দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স এই মুহূর্তে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ফেভারিট। কিলিয়ান এমবাপ্পে (৮ গোল) এবং ওসমান দেম্বেলে (৫ গোল) যেকোনো রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। মাঝমাঠে মাইকেল ওলিসে ৫টি অ্যাসিস্ট নিয়ে অ্যাসিস্টের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। নকআউট পর্বের তিনটি ম্যাচের একটিতেও তারা গোল হজম করেনি। আক্রমণ ও রক্ষণের এমন নিখুঁত ভারসাম্য ফ্রান্সকে শিরোপার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রাখছে।

ফাইনালে লড়াই করার সামর্থ্য আছে কার?

যদিও ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনা কেউই এখন পর্যন্ত তাদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি, তবু বড় টুর্নামেন্ট জেতার জন্য যে ‘লড়াকু মনোভাব’ ও ‘যেকোনো উপায়ে টিকে থাকার’ মানসিকতা প্রয়োজন, তা এই দুদলেরই আছে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফেভারিট স্পেন এবং ফ্রান্সও।

স্পেন ও ফ্রান্সের সেমিফাইনালটি যদি হয় ফুটবলীয় সৌন্দর্যের লড়াই, তবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াইটি হবে টিকে থাকার তীব্র যুদ্ধ। আটলান্টার সেমিফাইনাল থেকে যে দলই ফাইনালে নাম লিখবে, তারা নকআউট পর্বের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এতটাই পরিণত হয়ে উঠবে যে, ফাইনালে ফ্রান্স বা স্পেনের মতো প্রতিপক্ষকেও স্তব্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েই মাঠে নামবে তারা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *